Y
ChatGPT sa
পেয়ারার গুণাগুণ: স্বাস্থ্য, পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
পেয়ারা একটি জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল, যা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব এলাকায় সহজলভ্য। স্বাদে মিষ্টি-টক, সুগন্ধি এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি শিশু থেকে বয়স্ক—সবার জন্যই উপকারী। নিয়মিত পেয়ারা খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং নানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিচে পেয়ারার গুণাগুণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
পেয়ারার পুষ্টিগুণ
পেয়ারা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে—
ভিটামিন C (খুবই উচ্চমাত্রায়)
ভিটামিন A, B6 ও ফোলেট
খাদ্যআঁশ (Fiber)
পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল
এই উপাদানগুলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা
১. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
পেয়ারায় থাকা ভিটামিন C শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ সাধারণ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
২. হজম শক্তি উন্নত করে
পেয়ারায় প্রচুর খাদ্যআঁশ থাকায় এটি হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। যারা গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমে ভোগেন, তাদের জন্য পেয়ারা খুবই উপকারী।
৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
পেয়ারার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়ায় না। বিশেষ করে খোসাসহ পেয়ারা খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৪. হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে
পেয়ারায় থাকা পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
৫. ত্বক ও চুলের যত্নে উপকারী
ভিটামিন C ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক উজ্জ্বল রাখতে এবং বার্ধক্যের ছাপ কমাতে সাহায্য করে। পেয়ারা চুলের গোড়া মজবুত করে ও চুল পড়া কমাতে সহায়ক।
৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবার থাকার কারণে পেয়ারা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখা ভালো।
৭. ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা
পেয়ারায় থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যাল ধ্বংস করে, যা কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পেয়ারা খাওয়ার সঠিক নিয়ম
প্রতিদিন ১–২টি মাঝারি আকারের পেয়ারা খাওয়া যেতে পারে
খোসাসহ ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী
সকালে বা বিকেলে নাস্তার সময় খাওয়া উত্তম
সতর্কতা
অতিরিক্ত পেয়ারা খেলে কিছু মানুষের পেট ব্যথা বা গ্যাস হতে পারে। যাদের সংবেদনশীল পেট, তারা পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।


